প্রকাশিত: Wed, May 3, 2023 3:33 AM আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 5:50 AM
ক্ষমতায় থাকতে ডিজিটাল আইনকে ব্যবহার করছে সরকার: মির্জা ফখরুল
রিয়াদ হাসান: ফ্যাসিবাদী শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সেইসঙ্গে প্রস্তাবিত ‘অত্যাবশ্যকীয় পরিসেবা বিল ২০২৩’ প্রত্যাহারের জোর দাবিও জানিয়েছে বিএনপি।
মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল এমন মন্তব্য করেন। সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা আট মাসের বেশি সময় কারাগারে আটক এবং ইউএনবি সাংবাদিক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলার বিষয়ে আলোচনা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই কুখ্যাত আইন বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায়, যা গণতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সরকার এই আইনের সুযোগ নিয়ে বিরোধীদলের নেতা-কর্মী, সংবাদকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করছে। ফ্যাসিবাদী শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষে এই আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সভা অবিলম্বে কারাগারে আটক শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাসহ আটক সকল বন্দির মুক্তি ও এই আইনের অধীনে সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আইনটি প্রণয়নের কোনো পর্যায়েই অংশীজনের মতামত নেয়া হয়নি। প্রস্তাবিত আইনের পরিধি শুধু বিস্তৃত নয়, অসীম। সরকার ইচ্ছা করলেই যে কোনো শিল্প, প্রতিষ্ঠান, পেশা ও সেবাকে এই আইনের আওতায় এনে ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে, তা অমান্য করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বানাতে পারবে। যুগযুগ ধরে আন্দোলন করে শ্রমজীবী জনগণ যা কিছু অধিকার অর্জন করেছিল তা এই আইন দিয়ে নাকচ করে দেওয়া হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রচলিত শ্রম আইনেই কোনো ধর্মঘট জনজীবন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করলে তা নিষিদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট বিরোধটি শ্রম আদালতে পাঠানোর কথা বলা আছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজন মনে করলেই লক্ষ কোটি শ্রমজীবী, পেশাজীবী মানুষকে ৬ মাস করে সারা জীবন ধর্মঘট নিষিদ্ধ ঘোষণার আওতায় রাখতে পারবে। কিন্তু তাদের ন্যায্য সমস্যা সমাধান কিংবা প্রাপ্য আদায়ের কোনো বিকল্পের কথা আইনে রাখা হয়নি।
বিএনপি এই নেতা বলেন, ‘আইএলও’র সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ওই প্রতিষ্ঠানে গঠনতন্ত্র মানতে বাধ্য। যেখানে বলা হয়েছে কোন সদস্য রাষ্ট্র কোন কনভেনশন অনুসমর্থন করলে তার প্রতিটি বিধান বাস্তবায়ন করবে। রাষ্টের প্রচলিত আইন কনভেনশনের কোন বিধানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হলে সেই আইন পরিবর্তন করতে হবে। অথচ প্রস্তাবিত আইনে অনুসমর্থনকৃত কনভেনশনের বিধান অগ্রাহ্য করে সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি মনে করে, প্রস্তাবিত আইনটি শুধু শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ ও অধিকারকেই ক্ষুন্ন করবে না, এটি সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগণের সংবিধান সম্মত প্রতিবাদের অধিকার পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্পাদনা: তারিক আল বান্না
আরও সংবাদ
[১]মানুষ প্রতিটি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চায়: জি এম কাদের [২]ছাত্রদের ৯ দফায় সমর্থন
[১]শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে নিজেদের কর্মসূচি বাতিল করেছি: ওবায়দুল কাদের
[১]শিক্ষার্থী বনাম সরকার গেইম খেলে ফায়দা লুটতে চায় একটি মহল: ওবায়দুল কাদের
[১]নির্যাতন যত বাড়বে, গণপ্রতিরোধ ততোই দুর্বার হবে: মির্জা ফখরুল
[১]শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আওয়ামী লীগের মাসব্যাপী কর্মসূচি
[১]জামায়াত নিষিদ্ধ নিয়ে মির্জা ফখরুল বললেন, স্বৈরাচার সরকাররা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়
[১]মানুষ প্রতিটি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চায়: জি এম কাদের [২]ছাত্রদের ৯ দফায় সমর্থন
[১]শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে নিজেদের কর্মসূচি বাতিল করেছি: ওবায়দুল কাদের
[১]শিক্ষার্থী বনাম সরকার গেইম খেলে ফায়দা লুটতে চায় একটি মহল: ওবায়দুল কাদের
[১]নির্যাতন যত বাড়বে, গণপ্রতিরোধ ততোই দুর্বার হবে: মির্জা ফখরুল
[১]শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আওয়ামী লীগের মাসব্যাপী কর্মসূচি